মায়ের পরামর্শেই হলুদ কার্ড এড়ালেন বেলিংহ্যাম, সেমিতে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি হলুদ কার্ডই কখনো কখনো বদলে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের গল্প। জুড বেলিংহ্যামের জন্য নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিও ছিল তেমনই এক পরীক্ষা। একদিকে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তোলার দায়িত্ব, অন্যদিকে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে নিষিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত দুই পরীক্ষাতেই উতরে গেছেন তিনি। জোড়া গোলে দলকে জিতিয়েছেন, আবার কার্ডও এড়িয়েছেন। ম্যাচ শেষে জানালেন, পুরো সপ্তাহ মায়ের দেওয়া পরামর্শই তাঁকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে।
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে ইংল্যান্ডের নায়ক ছিলেন বেলিংহ্যাম। ম্যাচের দুই গোলই এসেছে তাঁর পা থেকে। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকোর বিপক্ষেও জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করে ১৯৮৬ সালে Diego Maradona–এর পর প্রথম ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েছেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।
তবে নরওয়ের বিপক্ষে তাঁর সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জও ছিল। মেক্সিকোর বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বেলিংহ্যাম। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে আরেকটি কার্ড মানেই সেমিফাইনালে নিষেধাজ্ঞা। অথচ তাঁর খেলার ধরনই এমন, যেখানে রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণ, তিন জায়গাতেই সমান সক্রিয় থাকতে হয়। বল দখলে নেওয়া, কঠিন ট্যাকল, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া, সব মিলিয়ে হলুদ কার্ডের ঝুঁকিও সবসময় থাকে।
ম্যাচ শেষে ২২ বছর বয়সী বেলিংহ্যাম জানালেন, এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁর মা ডেনিস বেলিংহ্যাম।
“আমার মা পুরো সপ্তাহ আমাকে বলছিলেন, কথাবার্তা, ট্যাকল, মুখের অভিব্যক্তি এবং আবেগের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে। হলুদ কার্ড যেন না পাই, সেটা তিনি বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন।”
মায়ের পরামর্শ কাজে লেগেছে বলেই মনে করেন বেলিংহ্যাম। একই সঙ্গে ম্যাচের রেফারিরও প্রশংসা করেছেন তিনি।
“সত্যি বলতে, আপনি যদি ঠিকভাবে খেলেন, তাহলে ব্যাপারটা সহজ হয়। রেফারিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে, তিনি অসাধারণ ছিলেন। তিনি সম্মানজনকভাবে কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন। অনেক রেফারি তা করেন না। আমি যখন নিজের ভারসাম্য ঠিক রাখি এবং এমন একজন রেফারি পাই, যিনি খেলোয়াড়দের কথা শুনতে চান, তখন বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যায়।”
কঠিন লড়াইয়ের পর জয় পাওয়ায় স্বস্তিও প্রকাশ করেন তিনি।
“এটি ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ। সৌভাগ্যবশত আমরা সেটি জিতে সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছি।”
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনও জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন বেলিংহ্যামকে।
“এটি আমাদের সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা জয়ের পথ খুঁজে নিয়েছি। পার্থক্য গড়ে দিয়েছে জুড। সঠিক সময়ে তার দুটি গোলই আমাদের সেমিফাইনালে তুলেছে।”
সতীর্থ এলিয়ট অ্যান্ডারসনও বেলিংহ্যামের প্রশংসায় ছিলেন উচ্ছ্বসিত।
“সে কীভাবে প্রতিবার ঠিক জায়গায় চলে আসে? এটা অসাধারণ একটি দক্ষতা। সে সত্যিই দুর্দান্ত।”
নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল, কার্ড এড়িয়ে যাওয়া এবং দলের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা, সব মিলিয়ে বেলিংহ্যামের জন্য এটি ছিল স্মরণীয় এক রাত। আর সেই রাতের নেপথ্যে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ভূমিকা ছিল মায়ের একটি সহজ পরামর্শের, মাঠে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে।







