নারী অ্যাথলেটদের সম্প্রচারে ‘সম্মানজনক’ ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা

নারী ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স নয়, অনেক সময় ক্যামেরার ফ্রেমই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। নিচু কোণ থেকে ধারণ করা দৃশ্য, অপ্রয়োজনীয় স্লো-মোশন রিপ্লে কিংবা শরীরকেন্দ্রিক ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের কারণে অনলাইনে যৌন হয়রানি, বিদ্রূপ ও অপব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বহু নারী অ্যাথলেট জানিয়েছেন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নারী অ্যাথলেটদের সম্প্রচারে আরও সম্মানজনক ও সংবেদনশীল ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ)।
নারী অ্যাথলেটদের সঙ্গে আলোচনা করেই নতুন এই নির্দেশিকা তৈরি করেছে সংস্থাটি। এতে বলা হয়েছে, এমন ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করা উচিত নয়, যা নারী ক্রীড়াবিদদের শরীরকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে যৌন আবেদনময় করে তোলে বা তাদের বিব্রতকর অবস্থায় উপস্থাপন করে। বিশেষ করে হাই জাম্প, পোল ভল্টসহ এমন ইভেন্টে নিচের দিক থেকে ক্যামেরা স্থাপন এবং অপ্রয়োজনীয় স্লো-মোশন রিপ্লে দেখানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে।
নির্দেশিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় নারী অ্যাথলেটদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছে ইবিইউ।
ব্রিটিশ অলিম্পিক ব্রোঞ্জজয়ী পোল ভল্টার হলি ব্র্যাডশ বলেন, সম্প্রচারে ব্যবহৃত কিছু ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের কারণে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন হয়রানি ও অনলাইন অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন।
তার ভাষায়, “লাইভ সম্প্রচারে আমাদের খেলাকে যেভাবে দেখানো হয়, তা দর্শকদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। কিন্তু অনেক সময় সেটি নারী অ্যাথলেটদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।”
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতার সময় ধারণ করা স্লো-মোশন ভিডিও ব্যবহার করে তার এবং অন্য নারী অ্যাথলেটদের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনেক সময় নিজের পারফরম্যান্সের চেয়ে ক্যামেরার উপস্থিতি নিয়েই বেশি চিন্তিত থাকতে হয়েছে।
“বারবার এমন হয়েছে, ক্যামেরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে শরীরের নির্দিষ্ট অংশে জুম করেছে বা এমন ভঙ্গির স্লো-মোশন দেখিয়েছে, যা কোনোভাবেই খেলার বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজন ছিল না,” বলেন ব্র্যাডশ।
সার্বিয়ার অলিম্পিয়ান লং জাম্পার ইভানা স্পানোভিচও একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তার মতে, কিছু ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল শুধু প্রতিযোগিতার সময় অস্বস্তিই তৈরি করে না, দীর্ঘমেয়াদে তা একজন অ্যাথলেটের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কী বলছে নতুন নির্দেশনা
অ্যাথলেটদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সম্প্রচারকারীদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় নিয়ে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ইবিইউ।
এতে বলা হয়েছে, যেসব ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থেকে সহজেই আপত্তিকর বা ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ হতে পারে, সেগুলো এড়িয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে এমন স্লো-মোশন রিপ্লেও ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যার খেলার বিশ্লেষণ বা গল্প বলার ক্ষেত্রে কোনো প্রয়োজন নেই।
ইবিইউ স্পোর্টের নির্বাহী পরিচালক গ্লেন কিলেইন বলেন, “নির্বাচিত ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও সম্পাদনার মাধ্যমে নারী ক্রীড়াবিদদের যৌন আবেদনময়ভাবে উপস্থাপন করা এখনো ক্রীড়া সম্প্রচারের একটি বড় সমস্যা।”
তার ভাষায়, “নারীদের শরীরের ওপর দীর্ঘক্ষণ ক্যামেরা ধরে রাখা, নিচু কোণ থেকে দৃশ্য ধারণ করা কিংবা অপ্রয়োজনীয় স্লো-মোশন রিপ্লে দেখানো সাংবাদিকতা বা সম্প্রচারের প্রয়োজন মেটায় না। বরং তা নারী ক্রীড়াবিদদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে।”
কোথায় কার্যকর হবে
ইবিইউর সদস্য বিবিসি স্পোর্ট আগামী ১০ আগস্ট ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে শুরু হওয়া ইউরোপিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ সম্প্রচার করবে। এই প্রতিযোগিতায় নতুন নির্দেশিকা অনুসরণ করা হতে পারে।
তবে ডায়মন্ড লিগ ইবিইউর মাধ্যমে পরিচালিত হয় না। ফলে ওই প্রতিযোগিতার সম্প্রচারে এই নির্দেশিকা অনুসরণ বাধ্যতামূলক হবে না।
সূত্র: বিবিসি







