মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ঝুঁকিতে নারী ও কন্যাশিশু: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক সংকটের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ নারী ও কন্যাশিশুদের আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এ পরিস্থিতিতে তাদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে জাতিসংঘের নারী সংস্থা ইউএন উইমেনের সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার (স্থানীয় সময়) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ও ইউএন উইমেনের উপনির্বাহী পরিচালক নিয়ারাডজাই গুম্বোনজভান্ডার সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে ড. তিতুমীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং জ্বালানি সংকটের বহুমাত্রিক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও পড়ছে। এতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বা ফিস্কাল স্পেস ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর শর্তের কারণে অনুদান ও সহজ শর্তের ঋণ পাওয়া সীমিত হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষা, ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন ড. তিতুমীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুরা যেন নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারে, জীবিকার সুযোগ পায় এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত হয়, সে ক্ষেত্রেও ইউএন উইমেনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
সরকারের নারী-কেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন ড. তিতুমীর। তিনি বলেন, পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু, মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং জীবনচক্রভিত্তিক সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
ইউএন উইমেনের উপনির্বাহী পরিচালক নিয়ারাডজাই গুম্বোনজভান্ডা বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে নারী-কেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষার একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কক্সবাজার সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, লিঙ্গসমতা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএন উইমেনের সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।






